মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার নারীর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে নতুন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা প্রথমে মাধ্যমিক, পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শুধু টিউশন ফি মওকুফ নয়, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। এর মাধ্যমে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি সরকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির কাজও এগোচ্ছে।

বেকারত্ব নিরসনে বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এটি সেচ, মৎস্যচাষ, হাঁস পালন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

ক্রীড়া উন্নয়নেও নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশজুড়ে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ শুরু হবে এবং ৫০০ খেলোয়াড়কে সরকারি সম্মাননা দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা—এই চার খাতকে সামনে রেখে দেওয়া এ ঘোষণাগুলো আগামী দিনের নীতিগত দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত বহন করছে।