ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad সফরে পৌঁছেছেন এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাগচি; বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
আগমনের পর ইরানি প্রতিনিধি দল সরাসরি ইসলামাবাদের Islamabad Serena Hotel-এ যায়, যেখানে আরাগচি ও ইসহাক দারের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে।
তবে সফরটিকে ঘিরে সম্ভাব্য ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের জল্পনা থাকলেও তেহরান স্পষ্ট করেছে, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরাগচির কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফরটি মূলত পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ ও চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা কেন্দ্রিক।
এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসলামাবাদেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে উভয় পক্ষ স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। সেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf নেতৃত্ব দেন। বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তান এরপর থেকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিমা ও আঞ্চলিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য প্রতিনিধিদল প্রস্তুত রাখলেও ইরান এখনো সরাসরি আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। ফলে ইসলামাবাদে নতুন দফার আলোচনা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
আরাগচির এই সফর তাৎক্ষণিক কোনো অগ্রগতির নিশ্চয়তা না দিলেও এটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে পাকিস্তান, কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, তখন ইসলামাবাদ বৈশ্বিক কূটনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
কাতারের আমির Sheikh Tamim bin Hamad Al Thani-ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে দোহা সূত্রে জানা গেছে, যা এই উদ্যোগে উপসাগরীয় সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
