রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী এক দশকে বহর ১৯ থেকে ৪৭-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি ধাপে ধাপে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বন্ধ রুট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে হজ মৌসুমের অতিরিক্ত চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে স্থিতিশীলতা আনা যায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে হজ মৌসুমে বিমানের সীমিত উড়োজাহাজের কারণে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট কমানো বা সাময়িক স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই চাপ মোকাবিলায় বহর বৃদ্ধি এখন কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তাবিত বহরে Boeing 787-9 Dreamliner, Boeing 787-10 Dreamliner এবং Boeing 737-8 MAX মডেল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে Malé, Yangon এবং New York রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে স্থগিত থাকা Narita রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালে Kunming ও Bahrain এবং ২০২৯ সালে Sydney, Jakarta ও Seoul রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন রুট নির্বাচনে যাত্রী চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কুনমিং রুটে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাহরাইন রুটে প্রবাসী শ্রমবাজার, এবং নিউইয়র্ক রুটে প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সিডনি, সিউল ও জাকার্তা রুটে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৪৭টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টি সরাসরি ক্রয় এবং বাকি অংশ লিজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে লিজ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত পূর্ববর্তী খসড়া চুক্তিও পর্যালোচনায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, “টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে হজ মৌসুমের চাপ সামলানো সহজ হবে এবং নিয়মিত রুটে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি নতুন রুট চালুর আগে আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার হবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি বাণিজ্য, পর্যটন এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরবর্তী গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।