ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে নতুন করে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সরকারি একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, চলমান কুটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। এর আগে শুক্রবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় ইসহাক দার কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপরদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তা ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বা সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এরপর দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ নেয় পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান দ্বিতীয় দফার বৈঠকে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিল।
এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কুটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রাজধানীর কয়েকটি হোটেল আগাম বুকিং রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কারিগরি ও লজিস্টিক দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, যা সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই কুটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
