ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শহর-গ্রামের বিদ্যুৎ বণ্টনে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় সীমিত পরিসরে লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামীণ সেচ কার্যক্রমে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলা অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এসব বিষয় আলোচনা হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সুপারিশ দেবে।
সংসদীয় আলোচনায় উঠে আসে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ কৃষি খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সেচ মৌসুমে কৃষকদের সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বণ্টনে অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে তা গ্রামে সেচের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্তের কথাও অধিবেশনে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে খাতটির জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন কৌশল ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজধানীতে লোডশেডিং বাড়ানো হলে নগর অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়তে পারে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় নীতিনির্ধারকদের সামনে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সংসদে উত্থাপিত এই উদ্যোগগুলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সহায়তা করার একটি নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।