মৃত্যু যে কতটা নিকটবর্তী, তা যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন মুক্তাগাছার এক বরেণ্য ইমাম। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আটানীবাজার জামে মসজিদে টানা ৪৫ বছর ইমামতি করা প্রবীণ আলেম আলহাজ হাফেজ ক্বারী আব্দুল গনি আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাত্র কয়েক দিন আগেই, গত শুক্রবার (১৭ তারিখ) দীর্ঘ ইমামতি জীবনের ইতি টেনে তাকে দেওয়া হয়েছিল এক বিরল ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা। মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর আয়োজনে সেই বিদায়ে ছিল ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার অনন্য প্রকাশ, ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া, সম্মাননা ও উপহার প্রদান-সব মিলিয়ে ছিল রাজকীয় আয়োজন। কিন্তু সেই বিদায়ই যে হবে জীবনের শেষ বিদায়, তা ভাবেননি কেউ।

আলহাজ হাফেজ ক্বারী আব্দুল গনি ছিলেন শুধু একজন ইমাম নন তিনি ছিলেন এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত, দ্বীনের প্রতি গভীর নিষ্ঠা এবং বিনয়ী জীবনাচার তাকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন আটানীবাজার জামে মসজিদে ইমামতি করে। পাশাপাশি বড় মসজিদে টানা সাত বছর সানি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইমামতির পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার প্রসারেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মালতীপুর পাথালিয়া বাগান মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে কুরআন-হাদিসের শিক্ষা দিয়েছেন।

তার ইন্তেকালে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার অবদান স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেন, তার মতো নম্র, খোদাভীরু ও সাদাসিধে মানুষ সমাজে ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।

মরহুমের জানাজার নামাজ আজ বাদ আসর স্থানীয় আর কে স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজায় তার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর উপস্থিতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারাজীবন পবিত্র কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত থাকা এই আলেমের বিদায়ে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন-তিনি যেন মরহুমের জীবনের সকল খেদমত কবুল করেন, তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দেন।