কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের সাত দিন পর একটি ডোবা থেকে ৭ মাস বয়সী শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি ও শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক সপ্তাহ আগে শিশুটির মা তাসলিমা বেগম সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দাদি রাবেয়া বেগম চিকিৎসার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে আসেন। পরে শিশুটির বাবা মিরাজ মিয়া তাকে নিজের কাছে নিয়ে যায় বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর মিরাজ মিয়া পরিবারের সদস্যদের জানায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন কৃষক জমি দেখতে গিয়ে একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

শিশুটির মা তাসলিমা বেগম দাবি করেন, তার সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভৈরব থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।