চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি, লিটন দাসের কার্যকর ইনিংস এবং মুস্তাফিজুর রহমানের পাঁচ উইকেটের নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলে চাপ তৈরি হয়। তবে সেই পরিস্থিতি সামাল দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজনের জুটিতে ইনিংস স্থিতিশীল হয়, একই সঙ্গে রান তোলার গতি বাড়ে। শান্ত ১০৬ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন, আর লিটন করেন ৭৬ রান। তাদের বড় জুটির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ।

Advertisement

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশি পেস আক্রমণ কিউই টপ অর্ডারকে গুছিয়ে উঠতে দেয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় রান তাড়ার গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি সফরকারীদের। ওপেনার নিক কেলি ও ডেন ফক্সক্রফট কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি ম্যাচের মোড় ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে দেন তিনি। তার স্পেলে প্রতিপক্ষ ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায়।

এই জয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় আরও একটি সিরিজ যোগ হলো বাংলাদেশের ঝুলিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডকে হারানো দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লক্ষ্যে র‌্যাঙ্কিং পয়েন্টের দিক থেকেও এই জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ম্যাচ শেষে দলীয় ভারসাম্য, মধ্যক্রমের দৃঢ়তা এবং বোলিং পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে জয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে চাপের ম্যাচে শান্তর দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের অভিজ্ঞ বোলিং বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছে।

ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সামনে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে থাকবে—এমন বিশ্বাস এখন আরও জোরালো।