ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এবং সামুদ্রিক নজরদারি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ডিপ সি, সেভিন ও দোরেনা নামের তিনটি জাহাজ আটক করা হয়েছে, যেগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগর সংলগ্ন একটি সামুদ্রিক অঞ্চলে জাহাজগুলো আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সূত্র বলছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা সংলগ্ন সমুদ্রপথের কাছাকাছি এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে।

Advertisement

সূত্রগুলো জানায়, আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ডিপ সি আংশিক তেলবোঝাই অবস্থায় ছিল, সেভিনে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং দোরেনা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছিল। এই জব্দের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি থমকে যাওয়ার পর সামুদ্রিক অবরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তার প্রশাসনের অবস্থান, নতুন সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে চাপ বজায় থাকবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র আরও দাবি করেছে, অবরোধ ঘোষণার পর ইরানি বন্দর ছাড়তে চাওয়া একাধিক জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে দেখালেও, তেহরানপন্থী মহল একে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করছে।

কূটনৈতিক মহলে ধারণা, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সমুদ্রপথে এমন অভিযান দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন ও হরমুজ-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ইস্যু এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর নজরের কেন্দ্রে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার চেয়ে এখন বড় প্রশ্ন— এই অবরোধ ও জাহাজ জব্দের ঘটনাগুলো নতুন আলোচনার পথ খুলবে, নাকি সংঘাতকে আরও গভীর করবে। আপাতত সেই উত্তর নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।