হরমুজ প্রণালি-কেন্দ্রিক অস্থিরতার জেরে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প রুট হিসেবে পানামা খাল-এর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে দ্রুত পারাপারের জন্য জাহাজগুলো বাড়তি অর্থ ব্যয়ে অগ্রাধিকার স্লট কিনছে, যা বিশ্ববাজারে পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

খাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ প্রায় ৪০ লাখ ডলার ব্যয়ে অগ্রাধিকার পারাপারের সুযোগ নিয়েছে। সাধারণ সময়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমান অনিশ্চয়তায় জরুরি সরবরাহ নিশ্চিত করতে শিপিং কোম্পানিগুলো বাড়তি ব্যয় মেনে নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য অস্থিরতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

Advertisement

সংকটের প্রভাবে পারস্য উপসাগর-নির্ভর জ্বালানি আমদানিকারকরা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু শোধনাগার এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ বাড়াচ্ছে, যার বড় অংশ পরিবহনে পানামা খাল গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে।

এদিকে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ মালাক্কা প্রণালি-তে টোল আরোপের সম্ভাবনা তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া কৌশলগত অবস্থানকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার যুক্তি, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রুট ব্যবহারে শুল্ক আরোপ করলে অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে সিংগাপুর ও মালয়েশিয়া। সিংগাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত এবং এটি কোনো লাইসেন্সভিত্তিক চলাচল নয়। একই অবস্থান নিয়েছে মালয়েশিয়াও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজে উত্তেজনা, পানামায় বাড়তি চাপ এবং মালাক্কায় টোল বিতর্ক—এই তিনটি প্রবণতা দেখাচ্ছে, সমুদ্রপথ এখন কেবল বাণিজ্যের রুট নয়, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে এসব রুটে নীতিগত পরিবর্তন বিশ্ববাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।