ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, দেশটির ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার বা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অতীতের সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইউরেনিয়াম উপাদান পুনরুদ্ধার বা নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন আরও সময়সাপেক্ষ ও প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এর সময় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করে। একই সময় ইসরায়েলের অপারেশন রোয়ারিং লায়ন-ও এই সামরিক চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA পূর্বে জানিয়েছিল, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা বাড়ানো হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যদিও সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে দেশটির ইউরেনিয়াম মজুত সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে কিনা— সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চাপও সমানভাবে বাড়ছে, যাতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
