যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যা কার্যত ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঘালিবাফ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে “আত্মসমর্পণের টেবিলে” রূপ দিতে চান, যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, হুমকি ও চাপের পরিবেশে কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
ইরানি স্পিকার আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতে গড়ালে ইরান নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দেশটি নিষ্ক্রিয় ছিল না এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত একাধিক দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় একদিনব্যাপী বৈঠকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় পক্ষের অবস্থান যে এখনো দূরত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়েছে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ও বন্দর ঘিরে চাপ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Bloomberg-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি শক্তি প্রদর্শনের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। উভয় পক্ষই আপসের ইঙ্গিত দিলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কৌশলগত স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
