ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা বাড়লেও তেহরানের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর আগেই অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক ও সরকারি উড়োজাহাজ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নুর খান বিমান ঘাঁটি-তে অবতরণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজে উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সহায়তা ও ভিআইপি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস আনা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো সেখানে পৌঁছায়, যা সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement

এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনার প্রস্তুতি পর্যালোচনায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাকিস্তান পক্ষ দাবি করেছে, সম্ভাব্য প্রতিনিধি দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ‘বাস্তববাদী’, তবে অতিরিক্ত আশাবাদী নয়। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানই যুক্তিসঙ্গত।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে মার্কিন উপস্থিতি বাড়লেও ইরানের অনিশ্চিত অবস্থান আলোচনার ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সংলাপ সফল হবে কি না, তা এখনো নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থার ওপর।