বগুড়ায় এক জনসভায় সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সেই প্রত্যাশা পূরণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোকে তিনি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে জনগণের অংশগ্রহণে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হচ্ছে।
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, দরিদ্র পরিবারকে সহায়তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য ভাতা নিশ্চিতকরণ, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক পরিসরে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে বলে জানান।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, কম খরচে দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমাবেশে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য সরকারের নীতি ও কর্মসূচিকে জনমুখী হিসেবে উপস্থাপনের একটি প্রচেষ্টা, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।