সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির প্রেক্ষাপটে এ বছর বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ‘পুলিশ সপ্তাহ’ সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মে শুরু হওয়া এই আয়োজন এবার সাত দিনের পরিবর্তে চার দিনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি কমানো হয়েছে অনুষ্ঠান, অতিথি এবং সম্মাননা পদকের সংখ্যা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজনের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। জ্বালানি, ভ্রমণ, আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর নির্দেশনার আলোকে অনুষ্ঠানসূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়সহ কিছু প্রচলিত কর্মসূচি বাদ পড়েছে।

এবার পুলিশ সপ্তাহে মোট ১১৫ জন সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদকে ভূষিত করা হবে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পুলিশের ঐতিহ্যবাহী সম্মিলন অনুষ্ঠান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গতবার অনুষ্ঠিত হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠিতব্য প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।

জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সরকারি ব্যয় হ্রাসে জ্বালানি ব্যবহার, ভ্রমণ ব্যয়, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁটের কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সপ্তাহের আলোকসজ্জা, আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কমানো হয়েছে। এমনকি নিম্নপদস্থ অনেক কর্মকর্তার অংশগ্রহণও সীমিত রাখা হয়েছে।

চার দিনের এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান, আইজিপি সম্মেলন, পুনাক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং শিল্ড প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর উপস্থাপনাও থাকবে কর্মসূচিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজারবাগেই অনুষ্ঠিত হবে প্যারেড।

পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পেশাগত দক্ষতা, সাহসিকতা, অপরাধ দমন ও সেবার মানের ওপর। সংশ্লিষ্ট একাধিক কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে, যা অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত আয়োজন হলেও এবারের পুলিশ সপ্তাহে শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।