মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নতুন করে কূটনৈতিক আশার সঞ্চার করেছে। প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে এবং শিগগিরই সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে। তবে বৈঠকের স্থান বা কাঠামো সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

Advertisement

ইসরায়েল ও লেবাননের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতপূর্ণ। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের Madrid Peace Conference-এ বহুপাক্ষিক কাঠামোর অধীনে দুই দেশ একসঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। এরপর সীমিত কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি সংলাপ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এই অচলাবস্থার পেছনে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে Hezbollah-এর প্রভাব এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিষিদ্ধকারী আইন পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে এতদিন যাবত দুই দেশের মধ্যে যেকোনো আলোচনা হয়েছে মূলত পরোক্ষভাবে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে UNIFIL বা যুক্তরাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে একই সঙ্গে সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায় এবং কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তাহলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই সংলাপ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।