বাড়িতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নেই। স্বামী থাকেন ঢাকায়, দুই ছেলে প্রবাসে। বাড়িতে ছিলেন বৃদ্ধা মা, ছোট ছেলের স্ত্রী ও এক নাতি। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দিবাগত রাতে অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন মোছা. নাজমা খাতুন (৫৫)। দুই হাতে কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত নাজমা খাতুন ওই গ্রামের হারুন অর রশিদের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে প্রতিবেশী রুবেল খাঁর ছেলে মোস্তাকিম খাঁ (২২) রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নাজমা খাতুনের বসতঘরের কাচের জানালায় ঢিল ছোড়েন। বিষয়টি মোস্তাকিমের বাবা রুবেল খাঁকে মৌখিকভাবে জানান নাজমা খাতুন। এরপর তিনি ঘরের দরজার সামনে বসেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর মোস্তাকিমের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাজমা খাতুনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁর দুই হাতে কোপ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

পরিবার সদস্যরা জানান, নাজমা খাতুনের চিৎকার শুনে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নাজমা খাতুনের স্বামী ঢাকায় একটি কারখানায় কাজ করেন। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। ঘটনার সময় বাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট ছেলের স্ত্রী ও এক নাতি। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

আহত বৃদ্ধার মেয়ের জামাই স্বপন মিয়া (৪০) বলেন,’বাড়িতে কেউ না থাকায় আমার শ্বাশুড়িকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা দ্রুতই থানায় অভিযোগ দায়ের করবো। তাই আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোস্তাকিম ও তার পরিবারের একাধিক নম্বরে কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি ।

রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম রোকন বলেন, ‘হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’