মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ইরান শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালির ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান। এই প্রস্তাব মূলত সংঘাত এড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে। একই সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন, যা এই উদ্যোগের বহুপাক্ষিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমানের জলসীমা ঘেঁষে জাহাজ চলাচলের একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করা হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নিতে কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর এলাকায় শতাধিক জাহাজ এবং বিপুলসংখ্যক নাবিক কার্যত আটকে আছেন, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে।
তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রণালিতে স্থাপিত সম্ভাব্য মাইন অপসারণ, কিংবা নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচল নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট নয়। ফলে প্রস্তাবটি কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, বাস্তবায়নের পথ এখনও জটিল।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই প্রস্তাবকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে একটি সম্ভাব্য ‘ডি-এস্কেলেশন’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের ওপর।
