কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নেমে তীব্র ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে৩ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেনআরও ২ জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর)বিকেলে হিমছড়ির ম্যারিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার পর্যটকরা ঢাকার উত্তরাদিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ১২ জনেরএকটি দল নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ বন্ধু বিকেলে সাগরে গোসলে নামলে আচমকা তীব্র স্রোতেরমুখে পড়েন।
নিহত ৩ পর্যটকরা হলেন ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়িএলাকার মো. বোরহান(২৩),সাইফুল ইসলাম(২৩)এবং নাফিসুলহক (২২)। তাদের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রামুউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)মো. জিল্লুররহমান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন,বিকেলে পর্যটকদের একটি দল সাগরে গোসল করতে নামে। এসময় হঠাৎ তীব্র ঢেউয়ের কবলেপড়ে স্রোতের টানে ভেসে যান তারা। ঘটনা দেখে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদরহাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ বাকিদুজনকে উদ্ধারে সাগরে তল্লাশিঅভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে নিহত ও নিখোঁজ পর্যটকদের সুনির্দিষ্ট সব তথ্য নিশ্চিতকরার চেষ্টা চলছে জানিয়ে রামুথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)একে ফজলুল হক বলেন, নিহতও নিখোঁজ পর্যটকদের নাম পরিচয়এবং ঢাকার দিয়াবাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমরা তাদের পরিবারেরসাথে যোগাযোগ করেছি। স্বজনরা কক্সবাজারে এসে পৌঁছানোর পরআইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিনাময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তরেরজন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি চাওয়া হবে।
ট্যুরিস্টপুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাদ এঞ্জেলা বলেন,খবর পাওয়ার পরপরই ট্যুরিস্ট পুলিশের টিমউদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়।উদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজদের সঠিকপরিচয় এবং তারা কোথা থেকেএসেছিলেন তা জানার পাশাপাশিতাদের স্বজনদের খবর দেওয়ারজন্য পুলিশ কাজ করছে। সৈকতেফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডেরসাথে আমাদের উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজবাকি ২ পর্যটকের সন্ধানে ফায়ারসার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং লাইফগার্ড কর্মীদেরযৌথ উদ্ধার অভিযান সাগরে এখনওঅব্যাহত রয়েছে। তবে সমুদ্রেরতীব্র ঢেউ ও অন্ধকারের কারণেউদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।