ফেনীর পরশুরামে বিএনপির সহযোগী সংগঠন উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি—দুই পদেই দায়িত্ব পালন করছেন আলমগীর হোসেন বাদশা। একই ব্যক্তির দুই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় সাংগঠনিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, বিষয়টি ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

পরশুরাম উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আতিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি খুবই আপত্তিকর ও সাংগঠনিক পরিপন্থী। উপজেলা নেতাদের অনেকবার বলা হয়েছে, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছেন না।”

যেভাবে দুই পদে দায়িত্ব পালন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পরশুরাম উপজেলা বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক ও সদস্যসচিব ইব্রাহিম খলিল মনি বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেন। ওই কমিটিতে আলমগীর হোসেন বাদশাকে সভাপতি, জামাল উদ্দিনকে সহসভাপতি, সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী মিনারকে সাধারণ সম্পাদক, আবুল কালাম বাচ্চুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কালাচাঁনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

জাগো নিউজ ও দৈনিক ফেনীর সময়ের ২০২২ সালের প্রতিবেদনেও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে আলমগীর হোসেনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর উপজেলা শ্রমিক দলের বর্তমান পদ, দুই পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং এ নিয়ে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন অভিযোগ, স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন

আলমগীর হোসেন বাদশার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্ব্যবহার, বেড়িবাঁধের মাটি কাটা, ইটভাটা দখল, চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পর অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলমগীর হোসেন বাদশার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

এদিকে, শনিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পরশুরাম উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শহিদ উল্যাহকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তকমা দিয়ে লাঞ্ছিত করা এবং পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আলমগীর হোসেন বাদশা ও ছাত্রদল নেতা আতাহার হোসেন পাপরুলের নাম এসেছে।

তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পুলিশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা এবং বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন বিএনপি ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুকে অবহিত করবেন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবেন।

দলীয় কমিটির পদে একাধিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হলে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।