ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের মামলায় নাঈম-(২৪) নামে এক আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গোপন সংবাদেও ভিত্তিতে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিপিসি-২ বসিলা, মোহাম্মদপুরের যৌথ আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃত নাঈম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া গ্রামের মোকলেছ মিয়ার ছেলে। তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এর আগে গত শনিবার রাতে এই মামলার আসামী বাহার মিয়াকে-(২২) গ্রেপ্তার করে সরাইল থানার পুলিশ।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে ৬জনকে আসামী করে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভিকটিম বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এসআরবি সূত্র, মামলার এজাহার ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোরী সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া নিজ গ্রাম থেকে একই গ্রামের একটি মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল শোনার জন্য যাওয়ার পথে একই গ্রামের জাকির-(৩৩), নাঈম-(২৪), সোহাগ মিয়া-(২১), মুকলেস-(৩৫), আলামিন ওরফে জিকির-(৪০) ও বাহার মিয়া-(২২) ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে গ্রামের নদীর তীরবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জাকির, নাঈম ও সোহাগ তাকে ধর্ষণ করে। অন্য তিনজনও ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে তারা রাত ১১ টার দিকে কিশোরীকে বাড়ি পাশে রেখে চলে যায় এবং কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে ৬জনকে আসামী করে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নাঈমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরীর বাবা জানান, পরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি মেয়েকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। গত ১৭ অক্টোবর রাতে সরাইল থানায় ৬জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
