জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে—যা বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিকে সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করা। প্রস্তাবিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ একটি কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা (Electronic Health Record) সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ডেটা এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে। এতে চিকিৎসকদের জন্য রোগ নির্ণয় সহজ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি কমবে।
প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব অঞ্চলে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে দেশব্যাপী এই সেবা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও শহুরে স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীর তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, তথ্য নিরাপত্তা এবং জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এদিকে সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সামগ্রিকভাবে, ‘ই-হেলথ কার্ড’ উদ্যোগটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—বরং এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ডিজিটাল যুগে নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।