‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক চোরাচালান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার হাতের রগ কেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনায় আহাদ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা।
‎
‎গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ১নং বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
‎
‎স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যায় বাজারের একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়া। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় তার হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
‎
‎হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অন্যরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
‎
‎আহত সাংবাদিককে দ্রুত দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‎
‎সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
‎
‎স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এর আগেও সাংবাদিক মোতালিবের দুই ভাই কবির ভূঁইয়া ও মামুন ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, আগের ঘটনার পর দুই ভাই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর এবার সাংবাদিক মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

‎দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়ার প্রকাশিত মাদকবিষয়ক প্রতিবেদনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাদক জব্দের ঘটনা ঘটে। এরপর মাদক কারবারিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
‎
‎তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় আহাদ ভূঁইয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
‎
‎এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।