ময়মনসিংহ মহানগরীর সুতিয়াখালী এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। গত ৪ অক্টোবরের এ ঘটনার পর ১৩ অক্টোবর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও একটি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি ও বাক্স ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নেওয়া হয় বলে তাঁরা দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুতিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা মিনা আক্তার, বেদেনা খাতুন ও জুয়েল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাঁদের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তবে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ভুক্তভোগী মিনা আক্তার ও বেদেনা খাতুনের অভিযোগ, শহিদুল, আমিনুল, নূর ইসলাম ও নান্টু মিয়াসহ জহিরুল হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে নেতৃত্ব দেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন। এসব অভিযোগ আদালতে দায়ের করা মামলার বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার বিচার চেয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

অভিযুক্ত শহিদুলের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুতিয়াখালী এলাকায় বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।