নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসি গ্রামের সন্তান আবদুল খালেককে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দিয়েছে সরকার। তিনি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ মর্যাদা দেওয়ার কথা জানানো হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে তাঁর নিজ এলাকা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসি গ্রামের মানুষের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

প্রশাসনিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা

আবদুল খালেক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বলা হয়েছে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৮৬ সালে প্রশাসন ক্যাডারে সরকারি চাকরি শুরু করেন।

কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং যশোর ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনের তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) এবং বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টেও কাজ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে নতুন মর্যাদা

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনরত আবদুল খালেককে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক কর্মজীবনে একটি নতুন স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জন্মভূমিতে আনন্দ

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসি গ্রামের সঙ্গে আবদুল খালেকের শিকড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর এ অর্জনকে ঘিরে শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবদুল খালেকের নতুন মর্যাদা লাভের খবরে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা সুস্বাস্থ্য ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।