নেত্রকোনার মদনে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার ঘটনায় সাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানুসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশ পাওয়া অন্য তিন শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক মোক্তাদির, হেভেন চৌধুরী ও নাহিদা আক্তার।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) সরকারি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়টি ছুটি দেওয়া হয়। ওই দিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান জানু ও সহকারী শিক্ষক মোক্তাদিরকে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখেন। এর আগে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দেখা যায় বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা আগাম ছুটির বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, একজন শিক্ষকের মাথাব্যথা থাকায় তিনি চলে গেছেন এবং আরেক শিক্ষকের ছেলে অসুস্থ থাকায় তিনিও চলে যান। এ অবস্থায় বাকি দুই শিক্ষকের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামলানো কঠিন হওয়ায় ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
পরে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, সরকারি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছিল। দুই সহকারী শিক্ষক আগেই চলে যান এবং বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধান শিক্ষক ও আরেক সহকারী শিক্ষকও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কারণে চার শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থী কমে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষক নিজের একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীকে সেখানে ভর্তি করিয়েছেন। বিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয় না বলে অভিযোগ তাঁদের। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকের বদলিও দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পাওয়ার পর শিক্ষা অফিস কী পদক্ষেপ নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।