লক্ষ্মীপুরে ভাড়া চুক্তি ভঙ্গ, হাসপাতালের অবকাঠামো ভাঙচুর এবং মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ওসমানের বিরুদ্ধে। আরডিসি মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ভবনমালিকের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময়মতো ভাড়া পরিশোধ করেনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলাউদ্দিন এসব অভিযোগ করেন। তিনি জানান, একই বিষয়ে ১২ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর ২০টি শর্তে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় সিরাজুল ইসলাম ওসমানের তিনতলা ভবনটি ১০ বছরের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে আরডিসি মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আলাউদ্দিনের অভিযোগ, চুক্তির ছয় মাস না যেতেই ভবনমালিক তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন। চুক্তি অনুযায়ী ভবন বুঝিয়ে না দেওয়া, নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং চুক্তিতে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগও করেন তিনি। এসব কারণে ২০২৪ সালের ৩০ জুন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের বন্যার সময় বন্যার্তদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে ভবনমালিক তাঁদের কাছ থেকে ভবনের চাবি নিয়ে যান। পরে আর চাবি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয় বলেও জানান আলাউদ্দিন। তাঁর দাবি, একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর ভবনমালিক পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

আলাউদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, ভবনের বিভিন্ন তলায় হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল ছিল। ভবনমালিক তালা ভেঙে হাসপাতালের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেন, সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন এবং ওষুধ, হিসাবের কাগজপত্র ও রেজিস্টারসহ বিভিন্ন মালামাল ছয়টি কক্ষে আটকে রাখেন। এসব ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুমানিক ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভবনমালিক সিরাজুল ইসলাম ওসমান বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর ভবন ভাড়ার চুক্তি ছিল। তবে তারা সময়মতো ভাড়া পরিশোধ করেনি। বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে হাসপাতালের মালামাল নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানা বা জেলা পুলিশের বক্তব্য এবং ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীন মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।