জামালপুরে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর পৌরসভা মিলনায়তনে ‘স্থানীয় সরকার গাইডলাইন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। জামালপুর পৌরসভার আয়োজনে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট ও সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনামুল হক সভা সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।
তামাক বিক্রিতে পৃথক লাইসেন্সের দাবি
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও স্থানীয় সরকার গাইডলাইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাকজাত পণ্যের বিক্রি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধ, তামাক বিক্রির জন্য পৃথক ট্রেড লাইসেন্স চালু এবং এ বিষয়ে তদারকি জোরদারের দাবি জানান। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সমন্বয় ও বাস্তবায়নে জামালপুর পৌরসভার উদ্যোগে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামালপুর পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের সভাপতি এম এইচ মজনু মোল্লা, প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান লিখন, জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব), জামালপুরের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক তানভীর আহমেদ হীরা, লেখক ও গবেষক মশিউল আলম বাবলু, সুজনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, জামালপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামীমা বেগম রুবি এবং সাংবাদিক মীর জাহাঙ্গীরসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও স্থানীয় সরকার গাইডলাইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের দাবি, তামাকজাত পণ্যের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে।