জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকা বাজি ধরে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে কাঁচা মাংস খাওয়ার অভিযোগে সাদুল্লাহ (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কোয়ালিকান্দি মধ্যপাড়ায় তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
আটক সাদুল্লাহ ওই এলাকার হাফিজলের ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে কোয়ালিকান্দি বাজার এলাকায় ৫০০ টাকা বাজি ধরে সাদুল্লাহ একটি জীবন্ত শালিক পাখি খেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত পাখিটির পা ও ডানা মুচড়ে ভেঙে ফেলতে এবং পরে পাখিটি ছিঁড়ে খেতে দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি দেখতে সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন; তাঁদের কেউ কেউ উল্লাসও করেন।
তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় ও স্থান এবং এতে দেখা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দাবি
জেলার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিহঙ্গ’-এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা ও হত্যা বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, সাদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, কোন আইনের কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।