ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা প্রায় ১৭ ঘণ্টার অভিযান শেষে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণালংকার, রুপার চেইন, পিতল ও তামার বিভিন্ন পূজার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। ফুটেজে দেখা যাওয়া জার্সি পরা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার সূত্র ধরে প্রকৃত সন্দেহভাজনদের কাছে পৌঁছায় পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া সামগ্রীর একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আখাউড়া বড় বাজার এলাকার লাল মিয়ার ছেলে জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেন (৩০) এবং মালদারপাড়া এলাকার নজরুল মালদারের ছেলে আকাশ মালদার ওরফে হাসিব (২৮)। পলাতক ব্যক্তি তাজুল ইসলাম (৬২)। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়; তিনি আখাউড়ার মসজিদপাড়ায় ভাড়া থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২ অক্টোবর সকাল ৭টার মধ্যে কোনো একসময় আখাউড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকার শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ একাধিক দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে ফাহিম নামে একজনকে আটক করা হয়। ফুটেজ দেখানোর পর তিনি চুরির ঘটনায় জারু মিয়ার সম্পৃক্ততার তথ্য দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পরে পুলিশ জারু মিয়াকে আটক করতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে তাঁকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, চুরির ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রাতে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছিলেন। তবে এ বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে জারু মিয়া চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আকাশ মালদারের সম্পৃক্ততার তথ্য দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে আকাশ মালদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
স্বর্ণালংকার ও পূজার সামগ্রী উদ্ধার
পুলিশ জানায়, জারু মিয়ার বাড়ি থেকে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুই আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, চারটি ইমিটেশনের মুকুট, দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ এবং একটি রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পলাতক তাজুল ইসলামের আখাউড়ার মসজিদপাড়ায় অবস্থিত ভাঙারির দোকান থেকে আরও কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে—
- রাধারানির একটি বড় পিতলের মূর্তি;
- গৌর-নিতাইয়ের দুটি পিতলের মূর্তি;
- গোপালের একটি ছোট পিতলের মূর্তি;
- একটি পিতলের কাঁসি ও একটি পিতলের গাছা;
- একটি পঞ্চপ্রদীপ;
- তিন জোড়া পিতলের করতাল;
- একটি তামার বাটি;
- ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি;
- একটি পিতলের প্রদীপদানি;
- শঙ্খ রাখার একটি পিতলের স্ট্যান্ড।
থানায় মামলা, পলাতক ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান
মন্দিরে চুরির ঘটনায় ১২ অক্টোবর আখাউড়া থানায় মামলা করা হয়। মন্দিরের আখড়া কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পলাতক আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মন্দিরের আখড়া কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।