ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষে অসুস্থ হয়ে পড়া রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান মো. শাহ আলম মারা গেছেন। সোমবার রাতে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের ভাষ্য, সিগন্যালিং ক্যাবল চুরির কারণে ট্রেন চলাচলে বিকল্প ব্যবস্থা চালু থাকায় কর্মীদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে শাহ আলমের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাহ আলম আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ট্রাফিক বিভাগে পয়েন্টসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাঁর মৃত্যুর খবরে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীদের অভিযোগ, সিগন্যালিং ক্যাবল চুরির পর বিকল্প পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনার জন্য পয়েন্টসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল।
সিগন্যালিং ক্যাবল চুরিতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ও বাইপাস এলাকায় সিগন্যালিং ক্যাবল চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে দুটি সেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ মূল ক্যাবল কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আখাউড়া বাইপাস স্টেশনের ২০৪/৫ কিলোমিটার এলাকায় টি-১ স্পেশাল গেটসংলগ্ন দ্বিতীয় সেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ মূল ক্যাবল চুরি হয়। একই রাতে ২০৩/৯ কিলোমিটার এলাকায় এ-১ সেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ মূল ক্যাবলও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্যাবল চুরির কারণে ওই এলাকায় স্বাভাবিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় ট্রেন পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল করানো হচ্ছে। এ ঘটনায় দুদিন আগে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সারারাত দায়িত্ব পালনের পর অসুস্থতা
আখাউড়া জংশনের বাইপাস কেবিন মাস্টার মো. তহুরুল জানান, সারারাত দায়িত্ব পালনের পর সকাল আটটার দিকে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অফিসে ঢুকে বমি করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তহুরুল আরও বলেন, ক্যাবল চুরির কারণে বাইপাস এলাকায় হাতে সংকেত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এ কারণে পয়েন্টসম্যানদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
শাহ আলমের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং তাঁর অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কোনো চিকিৎসাগত সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের নথি, চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রয়োজন।