নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৬৫ জন কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬০ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক ও পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত ১২ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

সাত থানায় ৬০ জনকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর

জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা থেকে পাঁচজন, কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে ১০ জন, কবিরহাট থানা থেকে ১০ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানা থেকে ২০ জন, সেনবাগ থানা থেকে দুজন, চরজব্বর থানা থেকে আটজন এবং চাটখিল থানা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে আটক পাঁচজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, শুধু আইনগত বা পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে জেলা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।