জামালপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ৯৪৩ জন প্রশিক্ষিত তথ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার ২১টি ওয়ার্ড এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ইউসুফ আলী।

জেলা প্রশাসক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। কার্যক্রমটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে অনলাইনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর মাধ্যমে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সমাজসেবা কর্মকর্তা ফারুক মিয়ার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইউসুফ আলী। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আফসানা তাসলিম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রোকনুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক আবু ইলিয়াস মল্লিক ও জান্নাতুল ফেরদৌসী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন্নাহার, জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামপুরে প্রথম ধাপে তিন ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ প্রথম ধাপে তিনটি ইউনিয়নে শুরু হবে। ইউনিয়নগুলো হলো—গাইবান্ধা, পাথর্শী ও সাপধরী। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা মিনি অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম ধাপে ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও তিনজন সুপারভাইজার ট্যাব ব্যবহার করে পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য মোট ১৩৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৪ জন সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।