মেহেরপুরে একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই পরিবারের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুমন্ত বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী ফাহিম। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, মাত্র এক বছর আগে পানিতে ডুবে দুই মেয়েকে হারিয়েছিলেন ফাহিমের বাবা ইছাহাক। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় হারালেন একমাত্র ছেলেকেও।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় পৃথক এ দুটি ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান।
ঘুমন্ত বাবাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তার
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউবাড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় হাবেল শেখ (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর একমাত্র ছেলে সাহাবুল শেখ (৪০)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নিহত হাবেল শেখ ওই গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন শেখের ছেলে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাবেল শেখের গলা ও বাম হাতের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাহাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিশু ফাহিমের
বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর, দুপুর ১টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় সাত বছর বয়সী ফাহিম। সে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর বেলেপাড়ার বাসিন্দা ইছাহাকের ছেলে এবং রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং শিশুটি কীভাবে বাসটির চাকায় পিষ্ট হলো, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
ফাহিমের মৃত্যুতে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। মাত্র এক বছর আগেই পানিতে ডুবে দুই মেয়েকে হারিয়েছিলেন তার বাবা-মা। এবার একমাত্র ছেলেকেও হারিয়ে তাঁরা সন্তানহারা হলেন।
এক বছর আগে দুই মেয়েকে হারিয়েছিলেন বাবা ইছাহাক
গত বছর মেহেরপুরের রাজনগর মুশুরিবাজার বিলে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন ছিল ফাহিমের বোন।
দুই মেয়ের মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন ইছাহাক ও তাঁর পরিবার। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তাঁদের শেষ সন্তান ফাহিমের।
একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক সন্তান হারিয়ে পরিবারটির জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
দুটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, “ঝাউবাড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামে বাবাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ আমি নিজে পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
শিশু ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনগরে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ও বারাদি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন।
তিনি আরও জানান, পৃথক দুটি ঘটনায়ই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।