নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধিগণ্ডী নদীতে আকস্মিক বন্যায় বহু ঘরবাড়ি, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকা থেকে ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে পানি হঠাৎ নেমে আসায় বন্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রায় এক ডজন বাড়ি, দুটি ঝুলন্ত সেতু এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। (রয়টার্স; এপি)

Advertisement

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গোরখা, ধাদিং, তানাহুন, চিতওয়ান এবং নাওয়ালপারাসির পূর্ব ও পশ্চিম অংশের নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ভেসে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নদীর পানির উচ্চতা ও স্রোতের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভূমিধস থেকে বন্যার আশঙ্কা

নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, উজানে ভূমিধসের কারণে বুধিগণ্ডী নদীর একটি উপনদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে সাময়িক জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে পানি হঠাৎ নেমে আসায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এখনো চলছে।

বুধিগণ্ডী নদী গোরখা জেলার পার্বত্য এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। বন্যার পানি ভাটির দিকে নেমে যাওয়ায় নদীপথের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকতে এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

আগস্টের বিপর্যয়ের ক্ষত এখনো কাটেনি

এর আগেও গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১ হাজার ৪৫৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগের দুর্যোগের পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে প্রায় ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

আগের বিপর্যয়ের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যেই নতুন এই বন্যা দেশটির পার্বত্য অঞ্চলে জননিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।