আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি। এবাদত হোসেনের চার উইকেটের সহায়তায় আফগানিস্তান অলআউট হয়েছে ২৪০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতেই এবাদত হোসেন ইকরাম আলিখিলকে ৩২ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন। এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ।

Advertisement

আফগানিস্তানের ইনিংসের এক ওভারে টানা তিন বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। ইসমতকে বোল্ড করার পর কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দী করেন উইকেটকিপার লিটন দাস। পরের বলে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। তবে তাঁদের দুজনই ছিলেন স্পিনার। হাসানই প্রথম বাংলাদেশি পেসার, যিনি টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন।

হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। পরে ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তাঁর চতুর্থ পাঁচ উইকেটের ইনিংস। একই ম্যাচে হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তাঁর পারফরম্যান্সকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

এ ছাড়া টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেট নেওয়া পেসারও হয়েছেন হাসান। নিজের ১৭তম টেস্টের ২৯তম ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মধ্যেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। ২১৬ বলে ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে তাঁর সেঞ্চুরি আফগানিস্তানকে বড় ঘাটতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানে অলআউট হয়।

বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫টি এবং এবাদত হোসেন ৪টি উইকেট নেন। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড।