রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে যান রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়।
এর আগে শনিবার শাহবাগ থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক জানিয়েছিলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে আয়াস নামের একজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় প্রতিকৃতি নষ্ট বা বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেভাবে সাজানো হয়েছিল ফুটপাত
গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানকার দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
পরে ফুটপাতটি পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ সময় সেখানে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের কাজও করা হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নিজে হামলার শিকার হওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনায় এর আগে আলোচনায় এসেছিলেন আ ন ম আয়াস।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে চারজনকেই নির্দোষ বলে গণ্য করার আইনগত অধিকার রয়েছে।