ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া বাইপাস রেলস্টেশন এলাকায় আবারও রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দুটি রেলসেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ মূল ক্যাবল কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সিগন্যালিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে আখাউড়া বাইপাস স্টেশনের কিলোমিটার ২০৪/৫-এর কাছে টি-১ স্পেশাল গেটসংলগ্ন দ্বিতীয় সেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ মূল ক্যাবল চুরি হয়। একই রাতে কিলোমিটার ২০৩/৯-এর কাছে এ-১ সেতুর সিগন্যালিং ব্যবস্থার পাইপসহ ক্যাবল কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর রাতে কাছাকাছি এলাকার লোকেশন বক্স থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সেগুলো মেরামতের পর সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছিল। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থায় এসব ক্যাবল ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাবল চুরির ফলে স্বাভাবিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–সিলেট রেলপথে ট্রেন পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মো. জোবায়ের শনিবার সকালে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিনই লোকেশন বক্সের সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার রাতে ভূগর্ভস্থ ক্যাবলও চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রেলওয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হচ্ছে।
তিনি জানান, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে হাতে লাইন মিলিয়ে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে।
এদিকে, দুদিন আগে সংঘটিত চুরির ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। তবে শুক্রবার রাতের চুরির ঘটনায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আগের চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আখাউড়া বাইপাস এলাকায় বারবার সিগন্যালিং সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালিং সরঞ্জামের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
