নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ১০৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর ১ হাজার ২৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার নয়টি থানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাতজনকে, আগের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জনকে, ১৫১ ধারায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। এছাড়া দুজনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চারজনকে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হয়েছে।

থানা-ভিত্তিক হিসাবে, সুধারাম মডেল থানায় ১২৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ১১২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানায় আটক ১৩১ জনের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ১২৬ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক ১৮৩ জনের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয় এবং ১৭৫ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

সেনবাগ থানায় আটক ৫৯ জনকেই মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। চরজব্বর থানায় আটক ১১০ জনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ১০৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সোনাইমুড়ী থানায় ৯২ জনের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৬৯ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। হাতিয়া থানায় আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ২৫৭ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

চাটখিল থানায় আটক ৫৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কবিরহাট থানায় আটক ৬০ জনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ৫৭ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কিশোরদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।