নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার হাটবাজারের উন্মুক্ত ইজারাকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, টাকা ও পে-অর্ডার ছিনিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন আব্দুল মালেক দুলাল নামে এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জলঢাকা পৌরশহরের পেট্রোল পাম্প এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল মালেক দুলাল। তিনি জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মালেক দুলাল দাবি করেন, পৌরসভার হাটবাজারের উন্মুক্ত ইজারা ডাকে অংশ নিতে বুধবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলা পরিষদে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট এবং শাহিনুর হক বাবুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে মুঠোফোন কেড়ে নেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা এবং ইজারায় অংশগ্রহণের জন্য নেওয়া ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডারও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি দোকানে আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুল মালেক দুলাল আরও বলেন, তাঁকে আটকে রাখার খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর সচিব আশরাফুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মালেক দুলাল। তাঁর আরও অভিযোগ, পরে সংশ্লিষ্ট হাটবাজার তিন মাসের জন্য তুলনামূলক কম দরে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

তবে ইজারা কার্যক্রমে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী। তাঁর দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতেই হাটের ইজারা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ/এজাহার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্দুল মালেক দুলাল। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং পৌরসভার ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ভুট্টু, শ্রমিক নেতা আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর সচিব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।