নেত্রকোনার মদনে বাসা ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের অভিযোগে দুই স্কুলশিক্ষিকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মদন থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরপুর কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেলের স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা নুসরাত জাহান লিজার মা রোকেয়া আক্তার ক্যানসারে আক্রান্ত। অসুস্থ মাকে দেখতে নুসরাত নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করেন।

রোববার বিকেলে নুসরাত জাহান লিজা বাসায় গিয়ে দেখতে পান, তাঁদের ভাড়াটিয়া হাফছা আক্তারকে নিয়ে পাশের বাসার কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এ সময় নুসরাত ও তাঁর মা রোকেয়া আক্তার বাধা দিলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে রোকেয়া আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হলে তাঁর হাত ভেঙে যায়। নুসরাত জাহান লিজাকেও মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নুসরাতের স্বামী সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল সোমবার রাতে মদন থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় দুই শিক্ষিকা, তাঁদের মা, বাবা ও আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর সোমবার রাতেই আফরোজা আক্তার স্মৃতি, তাঁর বোন লায়লা আক্তার লাবনী এবং তাঁদের মা মিলন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁদের নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্কুলশিক্ষিকা নুসরাত জাহান লিজা বলেন, “আমার মা অসুস্থ থাকায় স্কুল ছুটির পর প্রতিদিন তাঁকে দেখতে বাসায় যাই। রোববার বাসায় এসে দেখি, আমাদের ভাড়াটিয়া হাফছা আক্তারকে পাশের বাসার লোকজন মারধর করছে। আমি ও আমার মা বাধা দিলে আমাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার মায়ের হাত ভেঙে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনীকে বাসা ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিদ্যালয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। পরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে লায়লা আক্তার লাবনী ক্ষমা চান বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি।”

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, “এ ঘটনায় দুই শিক্ষিকা ও তাঁদের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।