ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নিজেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে শরীফ উদ্দিন রেজভী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। শরীফ উদ্দিন রেজভী কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের রানিয়ারা-বিষ্ণুপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, শরীফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলার কপির ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সেগুলো প্রিন্ট করতেন। পরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গিয়ে মামলার বাদী ও বিবাদীদের কাছে নিজেকে পিবিআইয়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তাঁদের পক্ষে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রোববার বিকেলে একটি মামলার কপি নিয়ে শ্যামবাড়ী গ্রামে যান শরীফ। তাঁর পরনে ছিল নেভি-ব্লু রঙের প্যান্ট ও বুট জুতা। সেখানে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এক ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজছিলেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী নয়ন নাজিরসহ কয়েকজনের তাঁর কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়। তাঁরা তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে শরীফ নিজেকে পিবিআইয়ের পুলিশ সদস্য বলে দাবি করেন। পরে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
এরপর স্থানীয়রা তাঁর কাছে পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে আদালতের একজন আইনজীবীর মুহুরি বলে দাবি করেন। মুহুরি হিসেবে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি কম্পিউটারে তৈরি একটি কার্ড দেখান বলে স্থানীয়রা জানান।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ বিভিন্ন মামলার নথির ছবি তুলে সেগুলো প্রিন্ট করে বাদী ও বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে মামলায় জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয়রা প্রতারণার অভিযোগে শরীফ উদ্দিন রেজভীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। তিনি পিবিআই পুলিশ পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
