নাটোরের লালপুরে পূর্ববিরোধের জেরে একটি ধানের জমিতে আগাছানাশক ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া মৌজার ৭২ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগানো রয়েছে। ইতোমধ্যে ধানে শীষ বের হতে শুরু করেছিল। তবে আগাছানাশক ছিটানোর কারণে জমির ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক কৃষক মোজাম্মেল হক।
স্থানীয়রা জানান, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোজাম্মেল হকের সঙ্গে সেকেন আলী, মোমিন ও আব্দুস সালামের বিরোধ চলে আসছে। চলতি মৌসুমে মোজাম্মেল হক ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেন। পরে কে বা কারা জমিতে আগাছানাশক ছিটিয়ে ধান নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ তার।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোজাম্মেল হক (৫৬) বলেন, বড়বাদকয়া মৌজার ৮২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৯০ নম্বর দাগের ৭২ শতাংশ জমিতে তিনি আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলেন। ইতোমধ্যে ধানে শীষ বের হতে শুরু করেছিল। তার অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুস সালাম, মোমিন, সেকেন আলীসহ তাদের সহযোগীরা রাতের আঁধারে জমিতে আগাছানাশক ছিটিয়ে পুরো ফসল নষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি লালপুর থানায় সেকেন সহ সাত জনের নাম উল্লেখ পূর্বক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়, নাটোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে মোজাম্মেল হকের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সেকেন আলী বলেন, মোজাম্মেল জমিতে আসার পর আমরা কেউ ওই জমিতে যাইনি। তার জমিতে কে বা কারা আগাছানাশক দিয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।