বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, দলের বাহিরে-ভেতরে যারাই জনস্বার্থ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করবে তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।

তিনি বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তাদেরকে স্পষ্টভাবে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানানো হবে এবং কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে । কতিপয়ের অনৈতিক কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ সহ্য করা হবে না।

তিনি আজ সকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের দিনব্যাপী যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদারতা কে দুর্বলতা ভেবে যারা অনৈতিক পথে পা বাড়িয়েছেন তাদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জন নিরাপত্তা ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । এবিষয়ে তারেক রহমান অবিচল ও আপোষহীন । এই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধকারী নেতাকর্মীদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে গুপ্ত ও নিষিদ্ধরা বিএনপি ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করছে। বিরোধী পক্ষ বিএনপি’র বিরুদ্ধে তাদের দুরভিসন্ধি মূলক রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এমন কোন কাজ করা যাবে না।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি জনগণকে দিতে চায়, মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়, দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।বিএনপির রাজনীতি ভোগের নয়, ত্যাগের , নেওয়ার নয়, দেওয়ার, ব্যক্তিগত স্বার্থের নয় , দেশ ও জনগণের স্বার্থের রাজনীতি।

বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনীতি করে।” এই আদর্শ ও রাজনীতিকে ধারণ ও অনুসরণ করতে হবে।

তারেক রহমানের অনাড়ম্বর জীবনযাপন, মানবিক রাজনীতি, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষা নিয়ে তা নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আচরণে প্রতিফলিত করাই বিএনপির নেতাকর্মীদের এই মুহূর্তের দায়িত্ব।

সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন ইউনিয়নের গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে তিনি বলেন ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী রাখা যাবে না, স্থানীয়নেতৃত্বকে সকলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একজনকেই সমর্থন দিতে হবে। এ লক্ষ্যে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন নির্বাচন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আলোচনার মাধ্যমে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধোবাউড়া বিএনপিতে বিভেদ নয়, ঐক্য চাই; ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা নয়, সংগঠন চাই; প্রতিহিংসা নয়, জনসেবা চাই।ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, শৃঙ্খলিত বিএনপি, জনবান্ধব বিএনপি—এই লক্ষ্যেই ধোবাউড়া থেকে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ রাব্বানী সুমন, আব্দুল কুদ্দুস, সোলায়মান সরকার, জাকিরুল ইসলাম খোকন, হুমায়ুন কবির, গাজির রহমান, ওয়াহেদ তালুকদারসহ উপজেলা বিএনপির সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা আহবায়ক,আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।