ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর ও দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমির প্রকৃত মালিকদের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারী পক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হবিরবাড়ি মৌজার ৮৭ নম্বর খতিয়ানের ১৯৮, ১৯৯ ও ২০০ নম্বর দাগে মোট প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা সোলেমান শেখ ও হারুনের নামে রয়েছে। কিন্তু এমদাদ উদ্দিন মৃধা, দুলাল মৌলবি, চন্দন হাজী ও হাজী আসাদসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে জোরপূর্বক ঘর ও দোকান নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি দখলের পাশাপাশি বৈধ মালিকদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে ওই পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
জমির মালিকরা নিজেদের জমিতে দখল নিতে গেলে কথিত দখলদাররা হামলা, হত্যা ও মামলার হুমকি দিয়ে তাদের সরিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে জমির মালিকরা আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জমিটি মো. আতাউর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানা গেছে। জমির দখল ফিরে পেতে মো. আতাউর রহমান জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহের কার্যালয়ে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩’-এর আওতায় আবেদন/মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এদিকে এ বিষয়ে প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদনের কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছে আবেদনকারী পক্ষ। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেদন তৈরির সময় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থাপিত বক্তব্য ও কাগজপত্র যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। এছাড়া সরেজমিনে জায়গা পরিদর্শন করা হয়নি এবং কোনো ম্যাপও তৈরি করা হয়নি।
আপত্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সুপারিশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে ২৪ নম্বর দাগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলেও আবেদনকারীর আমমোক্তারনামায় উল্লেখিত জমির তপশিলে ২৪ নম্বর দাগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে এবং বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি, এই জমি নিয়ে মামলা চলছে। বিচারাধীন কোনো বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকবাল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকা উপজেলায় এ ধরনের আরও অনেক জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে রয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসন কার্যকরভাবে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে পারে।