ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে তেলবাহী কন্টেইনার ট্রেনের একটি খালি ওয়াগনের চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে জংশনে ঢোকার পথে ডাউন লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাউন লাইনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি একাধিক সংবাদমাধ্যমে রেলওয়ে সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন লোকোশেডের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, জংশনে প্রবেশের পথে তেলবাহী কন্টেইনার ট্রেনটির একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার পর ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার তৎপরতার পর রাত ২টার দিকে লাইনচ্যুত ওয়াগনটি সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এর প্রভাবে ওই সময়সূচির কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন বিলম্বে চলাচল করে।

আখাউড়া স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েকটি ট্রেন দেরিতে স্টেশনে পৌঁছায়। কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. আলাউদ্দিন জানান, নির্ধারিত সময় বেলা সাড়ে ১২টার পর থেকে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৫টার পর ট্রেন এলে তিনি কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

উপকূল এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষমাণ মো. জাবের বলেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেনটি দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে চলার কথা তিনি স্টেশনে এসে জানতে পারেন।

এদিকে একই সময়ে পূর্বাঞ্চল রেলপথের বিভিন্ন ট্রেনের সময়সূচিতে বিলম্ব দেখা দেওয়ার কথা যাত্রীরা জানিয়েছেন। তবে ঢাকায় পৃথক আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব বিলম্বের সরাসরি সম্পর্ক এবং কোন কোন ট্রেন কত সময় বিলম্বে চলেছে—এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফলে আখাউড়ার লাইনচ্যুতির কারণে সৃষ্ট সাময়িক বিঘ্নের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রুটে বিদ্যমান বিলম্বের বিষয়টিও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।