জামালপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে টানা তিন দিনের অনশনের পর ৫১ প্রার্থীর মধ্যে ৪৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি সাতজনের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় তারা নিয়োগবঞ্চিতই রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অনলাইনে চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে। একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জামালপুর জেলায় ১৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৮ সেপ্টেম্বর একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ফলে ৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
নিয়োগপত্রের দাবিতে ওই ৫১ প্রার্থী গত ২৯ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী এহসান জানিয়েছিলেন, ৫১ প্রার্থীর নথিপত্র নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ৫১ জনের মধ্যে ৪৪ জনের চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে জামালপুর জেলায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ১২৯ জন চূড়ান্ত নিয়োগ পেলেন। বাকি সাতজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
নিয়োগ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া ইসরাফিল ইসলাম রতনও রয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান এবং চাকরির বিষয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। রাজনীতির সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে তিনি জানতে চান, নিজ উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার পরও কেন তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। এর বাইরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আর কিছু বলার বা করার নেই।
তবে সাতজন প্রার্থী ঠিক কী কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।