দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সভায় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘ইন্টারন্যাশনাল অফিস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে পোর্টালটিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা কেন্দ্র (ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার) স্থাপন, বিদ্যমান সক্ষমতা ও সম্পদের মানচিত্র তৈরি (রিসোর্স ম্যাপিং) এবং প্রয়োজনীয় জনবলের তালিকা ইউজিসিকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই তৃতীয় ভাষা চালু না করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভাষা নির্বাচন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বাকৃবিতে ইতোমধ্যে ‘International Language Center BAU’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে জার্মান, চীনা ও জাপানি ভাষা শেখানোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজার ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।