রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার শাখায় ব্যবস্থাপক পদে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের পরও স্বাভাবিক হয়নি ব্যাংকটির কার্যক্রম। মো. রাশেদুল ইসলামকে গত ২৫ আগস্ট ওই শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন করা হলেও তিনি ৬ সেপ্টেম্বর থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে শাখাটির ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৫ আগস্টের বদলি ও পদায়ন আদেশে দেখা যায়, মো. রাশেদুল ইসলাম প্রধান কার্যালয়ের এমটিএফপি অ্যান্ড বিসিডি বিভাগের মুখ্য কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে ওই শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মোত্তালেবকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রায় ১ মাস পর ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা রাকাবের এক দপ্তরাদেশে বলা হয়, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার শাখার ব্যবস্থাপক মো. রাশেদুল ইসলাম ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে শাখার সার্বিক কার্যক্রম ‘মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত’ হচ্ছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে সাময়িকভাবে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি।
শাখার গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপক না থাকায় ঋণ নেওয়া ও পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে কৃষকরা নতুন ঋণের জন্য আবেদন করেও সময়মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না।

শাখার এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপকের নির্দেশনা ছাড়া এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় নিজেদের হিসাবে থাকা টাকা তুলতে না পেরে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন বলে তাঁরা জানান।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি মৌসুমে সময়মতো ঋণ না পেলে তাঁদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি পুরোনো ঋণ পরিশোধের সুযোগ না থাকায় তাঁদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যবস্থাপক দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে থাকায় শাখার কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।

তবে শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ম্যানেজার ছুটি নিয়ে রাজশাহীতে বসে হেড অফিসে রূপালি ব্যাংকের পেছনে স্থানীয় একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল বাবুকে নিয়ে ব্যাংকে বদলি তদবির বাণিজ্য, জমি কেনাবেচার দালালি, তদবির-বাণিজ্য এবং ব্যাংকে মব সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে তিনি শুনেছেন। তিনি অসুস্থতার নাম করে ছুটিতে থেকে সিটি করপোরেশনের বিপরীতে রাত একটা পর্যন্ত কেরাম, তাস, জুয়া এবং নারীসহ বিভিন্ন নেশায় মত্ত থাকেন বলেও জানা যায় বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থাপক মো. রাশেদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাকাব নওগাঁ জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাময়িক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পাওয়া মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘সদ্য যোগদানকৃত ম্যানেজার অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরপর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

রাকাবের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট রাশেদুল ইসলামকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ছুটিতে যান। তবে তিনি নতুন কর্মস্থলে ঠিক কবে যোগদান করেছিলেন, সে বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের দপ্তরাদেশে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।

এদিকে ব্যবস্থাপক পদে পরিবর্তনের পরও গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকায় দ্রুত শাখাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও গ্রাহকরা।