ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া-(৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধ ও টেটাবিদ্ধ সহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নিলোইক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ রাউন্ড গুলি, ৫টি ককটেল ও একটি দশীয় বন্ধুক উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকারের বাড়ির লোকজনের সাথে একই এলাকার সফু সরকারের বাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ৩০ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে গত তিন মাস ধরে সফু সরকারের বাড়ির কমপক্ষে ১৫০ জন লোক এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে বসবাস করে আসছিলেন।
সোমবার ভোরে রাতে সফু সরকারের লোকজন নরসিংদী জেলা থেকে লোকজন নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করলে, তাদের উপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ করে গুলি ছুড়ে প্রতিপক্ষের লোকজন। এর পরই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করে। আহতদেরকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্শবর্তী নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সেফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন সরকার বলেন, “আমাদের বংশের দেড়শো লোক ৩ মাস ধরে এলাকা ছাড়া। সোমবার ভোরে এলাকায় ঢোকার পরে আজগর আলী সরকার বাড়ির সাদেক মেম্বার, ইসমাইল, ইব্রাহিম, জহিরুল হক ছুট্টু মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে ১০ টা গরু নিয়ে যায় ও বাড়ির মালামাল লুট করে। ওরা এক তরফা হামলা করেছে।
এ বিষয়ে আজগর আলী সরকার বাড়ির নেতা সাদেক মেম্বার বলেন, “পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। আমরা লুটপাট করি নাই।
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, জুয়েল মিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।